প্রাণে বাঁচলেন রাহুল গান্ধী!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৭ এপ্রিল ২০১৮: বাঁ দিকে ঝুঁকে গেছে বিমান। হু হু করে নেমে এসেছে প্রায় চার-পাঁচশ’ ফুট। কাজ করছে না অটো-পাইলট। চেষ্টা করেও নামানো যাচ্ছে না কর্ণাটকের হুবলি বিমানবন্দরে। আজ শুক্রবার সকালে একটি ছোট ফ্যালকন জেটে এমন ঘটনা ঘটেছে। ওই বিমানটির অন্যতম যাত্রী ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। শেষ পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই দিল্লি থেকে কর্ণাটকে পৌঁছেছেন তিনি। খবর আনন্দবাজারের।

কংগ্রেস সভাপতিকে বহন করা বিমানে এমন গুরুতর যান্ত্রিক বিভ্রাটের খবর সামনে আসার পরই শোরগোল পড়েছে দেশজুড়ে। এই গোলযোগ ‘পরিকল্পিত’ কিনা, তা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। রাহুলের সঙ্গে কথা বলেছেন খোদ নরেন্দ্র মোদি।

আজ সকালে তিনবারের চেষ্টায় হুবলিতে নামে বিমানটি। সেটিতে কংগ্রেস সভাপতিসহ পাঁচজন ছিলেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তর (ডিজিসিএ) জানিয়েছে, ‘অটো-পাইলট’ ব্যবস্থায় সমস্যা হওয়ায় ‘ম্যানুয়াল’ মোডে নিরাপদ অবতরণ করেছেন পাইলট। এই ধরনের ঘটনা ‘অস্বাভাবিক নয়’। কিন্তু সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস।

দলের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা বলেন, বিশেষ বাহিনীর স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের (এসপিজি) নিরাপত্তা পাওয়া কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে উড়বার আগে পাইলট এবং বিমান সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জমা দেয়া হয় ডিজিসিএ এবং এসপিজির কাছে। তারা ছাড়পত্র দিলেই উড়ানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়। আমাদের আশা, কর্ণাটক পুলিশ এবং ডিজিসিএ-র ডিজিরা তদন্ত করে জানাবেন, এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তির হাত ছিল কিনা।

বিধানসভা ভোটের প্রচারে শুক্রবার সকাল ৯টা ২০ নাগাদ হুবলি রওনা হন রাহুল। আবহাওয়া ভালোই ছিল। পৌনে ১১টা নাগাদ দেখা দেয় গণ্ডগোল। সুরজেওয়ালা জানিয়েছেন, জোরালো একটা শব্দের পরে অটো-পাইলট বিকল হয়ে গোত্তা খেয়ে নিচে পড়তে থাকে রাহুলের বিমান। ২-৩ মিনিটের জন্য রাডার থেকেও মুছে গিয়েছিল সেটি।

কর্ণাটকের ডিজি ও আইজির কাছে লিখিত অভিযোগে রাহুলের সহযোগী কৌশল বিদ্যার্থী বলেছেন, এমন কোনো প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, যার ব্যাখ্যা মেলেনি। কৌশলের কথায়, সকলের প্রাণ যেতে বসেছিল। কিন্তু রাহুল আগাগোড়া ধৈর্য রেখে পাইলটের পাশে ছিলেন, যাতে পরিস্থিতি সামাল দেয়া যায়।

কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, এর আগে গান্ধী পরিবারের সদস্যদের এভাবে প্রাণ গিয়েছে। রাহুলের প্রাণনাশের কোনো চেষ্টা হয়েছিল কিনা, তার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত। বিষয়টি রীতিমতো স্পর্শকাতর বলে কোনো মন্তব্য করেনি বিজেপি। কিন্তু ঘরোয়া মহলে বিজেপির কয়েকজনের বক্তব্য, বিষয়টিকে রাজনৈতিক রঙ দেয়া হচ্ছে কিনা সেটিও ভাবা দরকার। ডিজিসিএ জানিয়েছে, যেকোনো ভিআইপি বিমান তারা পরীক্ষা করে থাকে। এক্ষেত্রেও করবে। রাহুল আগামীকাল কর্ণাটকেই থাকবেন দলের ইশতেহার প্রকাশের জন্য।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*